আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরে আরো একবার সুদহার কমাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) চলতি বছরে আরো একবার সুদহার কমাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে শাটডাউন (সরকারি অচলাবস্থা) চলমান থাকায় মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে চাহিদার ঊর্ধ্বমুখিতায় গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়াও স্বর্ণের বাজারদর বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।

স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ৪ হাজার ১০ ডলার ৭২ সেন্টে। এ সময় ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে আউন্সপ্রতি মূল্যবান ধাতুটির দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৯ ডলার ৫০ সেন্টে। এটি আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অক্টোবরে সরকারি ও খুচরা খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। খরচ কমানোর পদক্ষেপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান কমানোর ঘোষণা করেছে। এএনজেডের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট সনি কুমারি বলেন, ‘বেসরকারি চাকরির তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে ডিসেম্বরেও সুদহার কমাতে পারে ফেড। এ কারণে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা এখনো অব্যাহত আছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ ক্রয় ও সুদহার কমার সম্ভাবনা।’

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা ডিসেম্বরে ফেডের সুদহার কমার সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ বিবেচনা করছেন, এর আগে যা ছিল ৬০ শতাংশ। এ বিষয়ে সনি কুমারি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান ও সরকারি শাটডাউনের পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীরা বিবেচনা করছেন। এ কারণে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলছে সরকারি শাটডাউন। এ কারণে বিনিয়োগকারী ও ফেড বেসরকারি খাতের তথ্যের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪৮ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছেছে। এ সময় প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫৫৪ ডলার ৬৬ সেন্টে। প্যালাডিয়ামের বাজারদর ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ১ হাজার ৩৯৫ ডলার ৫০ সেন্টে।

দামে ঊর্ধ্বমুখিতায় গত সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কম ছিল। এ কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা এ সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণ সর্বোচ্চ ১২ ডলার ছাড়ে বিক্রি করেছেন। এতে ৬ শতাংশ আমদানি ও ৩ শতাংশ বিক্রয় কর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নয়াদিল্লির এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, গত মাসে বিনিয়োগ চাহিদা ছিল স্বর্ণের দাম বাড়ার মূল চালিকাশক্তি। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে মূল্যবান ধাতুটির দামের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভারতে ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার রুপি, গত মাসে যা ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ২৯৪ রুপি।

শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ২ ডলার ছাড় থেকে ৫ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করে বিক্রি করেছেন।

আরও